ঢাকা , সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ , ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​ডিবি কার্যালয় থেকে আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৯-০৭-২০২৬ ০৫:২২:৪৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৯-০৭-২০২৬ ০৫:২৩:৫১ অপরাহ্ন
​ডিবি কার্যালয় থেকে আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ​ছবি: সংগৃহীত
বগুড়ায় হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামির ঝুলন্ত মরদেহ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বগুড়া ডিবি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আসামির নাম আসাদ (২৫)। তিনি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা মধ্য উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে বগুড়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সারিয়াকান্দিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আব্দুল মান্নান হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। তাকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছিল।

ডিবি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে নাশতা শেষে আসাদ ডিবি কার্যালয়ের টয়লেটে যান। দীর্ঘ সময় বের না হওয়ায় সন্দেহ হলে পুলিশ সদস্যরা টয়লেটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তাকে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে নিজের পরনের লুঙ্গি পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধীন মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাশেদুল ইসলাম রনি বলেন, হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় আসাদের গলায় ফাঁসের একটি স্পষ্ট দাগ পাওয়া গেছে। শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন সারিয়াকান্দি উপজেলার দড়িপাড়া এলাকার কৈ-খালি বিলসংলগ্ন স্থান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আব্দুল মান্নানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার অটোরিকশাটি নিখোঁজ ছিল। পরে ১ জুলাই নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সারিয়াকান্দি থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে আসাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ দাবি করেছে, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান বলেন, আসাদসহ তিনজন বগুড়া শহর থেকে ভাড়া করে আব্দুল মান্নানের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সারিয়াকান্দিতে যান। সেখানে চালককে হত্যার পর অটোরিকশাটি নিয়ে আসাদ নওগাঁয় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, রোববার সকালে নাস্তার পর আসাদ টয়লেটে গিয়ে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে নিজের লুঙ্গি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ